সারাদেশ 

নিরলস একজন করেনা যোদ্ধা সাভারের, স্মরণ সাহা

নিরলস একজন করেনা যোদ্ধা সাভারের, স্মরণ সাহা

দীপা খন্দকার:

একজন সঙ্গীত একাডেমির পরিচালকের ফোন ‘দাদা বাইরে বৃষ্টি, ঘরে রাতের খাবার নাই’, বহুল পরিচিত শিল্পীর অনুরোধ, ‘দাদা এবারের প্যাকেটে চালের পরিমাণটা একটু বাড়িয়ে দিলে ভাল হয়’ কিংবা ‘দাদা সকালে কি খাব জানিনা’ মাননবতার দূত হয়ে ঝড়- বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের সহায়তা পৌঁছে দিতে ছুটলেন সকলের ভরসার দাদা স্মরণ সাহা। একজন শিল্পী ও সঙ্গীত একাডেমির পরিচালকের বক্তব্য ‘ স্মরণ দাদা সহায়তা না করলে আমার টিকে থাকা কষ্ট হতো। আমি যতদূর জানি তার তদারকীতে যারা সমস্যায় প্রায় প্রতিটি শিল্পী সহায়তা পেয়ে চলেছেন।’
হ্যাঁ তিনি সাভার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাগরণী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক, নাট্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক স্মরণ সাহা। স্মরণ সাহা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের জন্য মানুষ, শিল্পীর পাশে শিল্পী।

যেখানে করোনা ঝড়ে বিপর্যস্ত পৃথিবীতে, এখন বেঁচে থাকাটাই স্বস্তি, বেঁচে থাকাটাই আনন্দ সেখানে কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকাটাকেই কেবল আনন্দের মনে করছেন না। আনন্দ খুঁজছেন মানব সেবায়, সংস্কৃতিকর্মীদের সেবায়। প্রচার, প্রকাশের তোয়াক্কা না করে সেবা করে চলেছেন নীরবে, নিভৃতে। একজন মানুষ কতটা মানবিক হতে পারেন এ মানুষটিকে না জানলে মন্তব্য করা যায়না-তিনিই স্মরণ সাহা।

মানবিক এ মানুষটি করোনা বিধ্বস্ত অসহায় জনগোষ্ঠি ও সমস্যায় আছেন এমন সংস্কৃতি কর্মীদের পাশে দাড়িয়েছেন অকৃত্রিম বন্ধুর মত। সহায়তা করে চলেছেন কখনো জাগরণী থিয়েটারের নামে, কখনো ব্যক্তি উদ্যোগে, কখনো উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ভলান্টারি সার্ভিসের মাধ্যমে। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে তার নেতৃত্বে জাগরণী থিয়েটার এক হাজার মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে। চালু করে বাসায় বাসায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাজার সেবা প্রদান। উপজেলা প্রশাসনকে সরকারী ত্রাণ বিতরণে সার্বক্ষণিক প্যাকেটিং ও বিতরণে ভলান্টারী সার্ভিস প্রদান করেন তিনি এবং জাগরণীর একদল কর্মী। যারা সমস্যায় আছেন, এমন সংস্কৃতিকর্মীদের টানা সহযোগিতা প্রদান করেছেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com