রাজনীতি 

সিরাজগঞ্জে আ‌ওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত

সিরাজগঞ্জে আ‌ওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত

নিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে আয়োজিত এক বিজয় র‌্যালিতে হামলার ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পূর্বদিকে কালিবাড়ি-ইলিয়ট ব্রিজ রোডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগের বিজয় র‌্যালিতে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের হয়। এসময় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কতিপয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সাথেও দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাদের হামলায় আমাদের ১৫ জনের মতো নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর এই হামলা করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

অপরদিকে, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্থানীয় নেতাকর্মীদের বরাত দিয়ে জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কর্মীরা ভুলবশত আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা উপায় না পেয়ে ইট-পাটকেল ছোঁড়া শুরু করে। এটা দুঃখজনক।

জানা গেছে, বর্তমানে সিরাজগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সমর্থক। অপরপক্ষ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোকাদ্দেস আলীর সমর্থক। মিছিলটি যখন আসছিলো, তখন টুকুর সমর্থকরা মোকাদ্দেস আলীর সমর্থক গোষ্ঠী ভেবে তাদের উপর হামলা চালায়।

এরই জের ধরে জেলা আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কালিবাড়ি রোডে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সদর থানা পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বিএনপির দুই গ্রুপের সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি, অপরাধ) মো. ফোরকান শিকদার বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিএনপির লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায় ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

Related posts

Leave a Comment

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com