সাহিত্য ও সংস্কৃতি 

হাসুমনির পাঠশালার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ইলোরা’র সুচি শিল্প

হাসুমনির পাঠশালার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ইলোরা’র সুচি শিল্প

– রীনা তালুকদার

শেখ হাসিনার ৭২ তম জন্ম বাষির্কী (২৮ সেপ্টেম্বর) এবং হাসুমনির পাঠশালার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এবারে উঠে এলো নড়াইলের সুচি শিল্পী ইলোরা পারভীনের ছবিতে বঙ্গবন্ধু ও পারিবারিক ছবি এবং মুক্তিযুদ্ধের আলোচিত সেই ছবি গুলি। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ঐতিহ্যবাহী সুঁচিশিল্প প্রদর্শনী শুরু হয়েছে হাসুমনি’র পাঠশালা’র আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এম.পি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এম.পি। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম.পি ও মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এম.পি। সুচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের ট্র্যাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান ছিলেন হাসুমনি’র পাঠশালা’র সভাপতি মারুফা আখতার পপি।

প্রদর্শনী স্থলে উপস্থিত ছিলেন সুচি শিল্পী ইলোরা পারভীন। শিল্পী এস এম সুলতানের বাড়ী পাশের ইলোরা পারভীন বলেছেন যে তিনি এস এম সুলতানের ছবি দেখে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন। তারপর থেকেই তিনি এস এম সুলতানের ভক্ত দুলাল সাহেবের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় গত ২১ বছর ধরে সাধনা করে যাচ্ছেন। তার সুচের তুলিতে তিনি বঙ্গবন্ধু ও পরিবার কেন্দ্রিক সেই বিখ্যাত ছবি গুলো ফুটিয়ে তোলেন। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আলোচিত ছবি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও জয়ের ছবিও তুলে আনেন তার সুচের তুলিতে। এই শিল্পী বেশ আনন্দিত হাসুমনির পাঠশালার এই আয়োজনে।

ইতোপূর্বের প্রদর্শনীতে মারুফা আক্তার পপি বলেছেন, আমি তো রাজনীতি করি এর বাইরে চিন্তা করলাম আর কি কন্ট্রিবিউশন রাখা যায়। সেই চিন্তা থেকে এমন উদ্যোগটি নিয়েছি। এবং আমি মনে করি এই বইটাও একটি সাংগঠনিক কাজের অংশ। আমাদের লঘুর হাসুমনি যে কালো লেখাটা টা সেটা কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিজের হাতে লেখা। শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ এবং মেধাবী প্রজন্ম যদি গড়তে চাই তাহলে আমাদের একটি শিক্ষিত প্রজন্ম লাগবে। যারা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে, মুক্তিযুদ্ধ জানবে, শেখ হাসিনাকে জানবে। আর এই জানার চাহিদা পূরণ করবে হাসুমনির পাঠশালা।

হাসুমনি নামটা হচ্ছে একটা নতুন প্রজন্মের একটি প্রতীক। আমি যেমন আমার মেয়ে মামনি ডাকি তেমনি তখন বঙ্গবন্ধুও শেখ হাসিনাকে হাসুমনি বলে ডাকতো। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা সামনাসামনি দেখিনি। বঙ্গবন্ধুকে আমরা জেনেছি বই পড়ে, সিনিয়রদের কাছ থেকে। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে স্বাধীন, স্বার্বভৌম একটি রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য সেটা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। কিন্তু এই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশটাকে বিকশিত করেছেন এবং বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছেন তার কন্যা। দেশের নাগরিকদের উন্নতজীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। নতুন প্রজন্মকে তার উন্নত চিন্তা ভাবনা, এই যে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার এই যে কর্মদক্ষতা আর অর্জন। এই ব্যাপারগুলো যদি নতুন প্রজন্ম উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখে তাহলে তার কোনো কিছুকেই পরোয়া করার কথা নয়।

বিশিষ্ট অভিনেতা ও আবৃত্তি শিল্পী জয়ন্ত চট্রোপাধ্যায় ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এই প্রদশনীতে উপস্থিত হন।

প্রতিদিনই নানান বয়েসী মানুষের ভিড় জমছে প্রদর্শনী দেখতে। এই শিল্প প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে -সন্ধ্যা ৬টা, ২১ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

Related posts

Leave a Comment

WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com