অপরাধ ও দুর্নীতি 

অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল বিএনপির তত্ত্বাবধানে!

অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল বিএনপির তত্ত্বাবধানে!

নিউজ ডেস্ক : ক্যাসিনো মানেই টাকার ছড়াছড়ি। বিশ্বজুড়ে এমন অসংখ্য ক্যাসিনো রয়েছে। যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন সবাই। পৃথিবীর অনেক দেশেই জুয়া খেলার ব্যবসা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ক্যাসিনো অবৈধ। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মনোরঞ্জনের পাশাপাশি অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য ক্যাসিনোগুলোতে প্রতিদিন ভিড় জমান।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার মতিঝিল, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচা, গুলিস্তান, উত্তরা, গুলশান ও বনানীর মতো বিভিন্ন স্পটে অবৈধ ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরের ব্যবসা চলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কিছু সিন্ডিকেট এই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজধানীতে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করত যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা। এর মধ্যে যুবদলের তৎকালীন সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রীতিমতো বাসা ভাড়া নিয়ে চলতো ক্যাসিনো ও জুয়ার ব্যবসা। তবে বাংলাদেশে ক্যাসিনো ও প্রাতিষ্ঠানিক জুয়ার আদি ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে জানা গেছে, সাবেক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের আমলেই ছোট আকারে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে ক্যাসিনোর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন মন্ত্রী ও মোসাহেবদের বিশেষ তদবিরে রাজধানী কিছু পয়েন্টে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরের অনুমতি দেন জিয়া। শুরুতে জিয়া সরকারের প্রভাবশালীরা ক্যাসিনোগুলোতে যাওয়া-আসা করলেও পরবর্তীতে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আনাগোনায় জমে ওঠে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলো। তৎকালীন সময়ে দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছিল কর্মীদের। প্রশিক্ষিত জুয়াড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরীও আনা হয় বিদেশ থেকে। ক্যাসিনোগুলোতে প্রতি রাতেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলতো।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসলে অনেকটা প্রকাশ্যেই মতিঝিল-গুলশান এলাকাগুলোতে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর ব্যাপক জমে উঠে। যুবদল ও ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতারা জুয়ার আসরগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও এর মোটা একটি ভাগের অংশ পৌঁছে যেতে তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। তৎকালীন প্রশাসনকে ম্যানেজ করারও দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারেক রহমান। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজধানীতে অর্ধশতাধিক ক্যাসিনো চালু ছিল। শুধু এই ৬০টি-ই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় রীতিমতো বাসা ভাড়া নিয়ে চলতো জুয়ার আসর। জুয়া ও ক্যাসিনো চালিয়ে কোটি কোটি বিদেশি পাচার করতো বিএনপির চক্রগুলো। গুঞ্জন রয়েছে, জুয়ার টাকা পাচার করে লন্ডনের কিংস্টন এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনের বিভিন্ন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরেও মাঝে মাঝে তারেক রহমানকে দেখা যায় বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র আরো বলছে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় ঘটলে ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরগুলোতে থেকে সটকে পড়তে শুরু করে তৎকালীন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

Related posts

Leave a Comment

WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com