বিনোদন ও খেলাধুলা 

ঢাকার ধামরাইয়ে রথ মেলার সার্কাসের মাটির মঞ্চ কাপিয়ে গেলন- হিরো আলম

ঢাকার ধামরাইয়ে রথ মেলার সার্কাসের মাটির মঞ্চ কাপিয়ে গেলন- হিরো আলম

মোঃ জাকির হোসেন :

আশরাফুল আলম সাঈদ একজন বাংলাদেশী সঙ্গীত ভিডিও মডেল, অভিনেতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি। যার ভাইরাল হওয়া নাম হিরো আলম। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ধামরাইয়ের রথমেলার সার্কাসের মাটির মঞ্চ কাপিয়ে গেল হিরো আলম। নিজের কিছু গান গেয়ে শুনালেন,নাচ করলেন এবং বক্তব্য দিয়ে শেষ করল ডিজিটাল নায়ক হিরো আলম।

ইউটিউবে মিউজিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রে অভিনয় ছেড়ে হঠাৎ করে নির্বাচনী মাঠে আসার ঘোষণার কারণ জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, ‘হিরো আলম ওয়ার্ল্ড ফেমাস সেলিব্রিটি। ফেসবুকে আমার অনুসরণকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ। আমার নির্বাচন করার ঘোষণায় অনেকেই সমালোচনা করছেন। আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন। কৌতুক করছেন, নানা গুজব ছড়াচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি চা-দোকানি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে হিরো আলমের এমপি ইলেকশন করার খবরে হিংসে হয় কেন? আমি এ দেশের নাগরিক। আমিও সংসদে গিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় ভূমিকা রাখতে চাই। এটা নিয়ে ব্যঙ্গ-কৌতুক করার আগে একবার ভাবুন, জিরো থেকে হিরো আলম কেমনে হলাম। অনেক সাহস, পরিশ্রম আর স্বপ্নের জোরেই জিরো থেকে হিরো আলম হয়েছি। দেশ-বিদেশের মিডিয়ায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়জনকে নিয়ে এত মাতামাতি হয়েছে? কয়জনকে খোঁজার জন্য গুগলে এত বেশি সার্চ হয়েছে?’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক বছর ধরে ব্যাপক আলোচিত হিরো আলমের হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় নতুন করে আলোচনায় তিনি। হিরো আলমের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছে। বগুড়ার প্রত্যন্ত এরুলিয়া গ্রামে একসময় সিডি বিক্রি করতেন আশরাফুল আলম। সিডি যখন চলছিল না, তখনই মাথায় আসে কেবল সংযোগ ব্যবসার। কেবল সংযোগের ব্যবসার সুবাদে মিউজিক ভিডিও তৈরি শুরু করেন। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হিরো আলম। ইউটিউবে প্রকাশ করা তাঁর নিজস্ব ভিডিওগুলোও অনেক জনপ্রিয়। ভিডিওগুলোর নির্দেশনাও দেন হিরো আলম। ভিডিওগুলোর মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ইউটিউবে হিরো আলমের এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তাঁর ভিডিও নিয়ে কৌতুক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তাঁর ভিডিও নিয়ে হয় ট্রল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

হিরো আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই কর বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। সিডির ব্যবসার সুবাদে ২০০৮ সালে নিজেই একটা মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন। নায়ক-নির্দেশক তিনি নিজেই। এরপর তা কেবল চ্যানেলে প্রচার করেন। পরিচিতরা প্রশংসা করেন। এরপর সিডি ব্যবসা বাদ দিয়ে মিউজিক ভিডিও বানানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। হিরো আলম ইতিমধ্যেই ‘মার ছক্কা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি।

২০১৬ সালে হিরো আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শিরোনাম হন তিনি। ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন করা হয়।

ফেসবুকে হিরো আলমের রেকর্ড অনুসারীর ভিত্তিতে গুগল তথ্য প্রকাশ করে, বলিউড নায়ক সালমান খানের চেয়েও হিরো আলমকে গুগলে বেশিবার খোঁজা হয়েছে। আলটিমেট ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে ইউএনবির খবরে বলা হয়েছে, গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে, ‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকা খ্যাত সালমান খানকে পেছনে ফেলেছেন হিরো আলম। সালমানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে।

হিরো আলমের বিপক্ষে লড়বেন কারা
হিরো আলম লাঙ্গল প্রতীকে যে আসনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত সেই বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৪১ জন। ১৯৯১ সালে এই আসনে বিএনপির সাংসদ নির্বাচিত হন দলের প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে প্রয়াত সাংসদের ছেলে জিয়াউল হক মোল্লা দলীয় মনোনয়নে সাংসদ হন। এ ছাড়া তিনি আরও তিন দফা সাংসদ হন। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সংস্কারপন্থী নেতাদের পক্ষ নেওয়ায় জিয়াউল হক মোল্লা দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁকে বাদ দিয়ে মোস্তফা আলী মুকুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি মহাজোট মনোনীত জাসদের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনকে হারিয়ে সাংসদ হন।

২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগে সমঝোতার ভিত্তিতে জাপার নুরুল আমিনকে জেতার সুযোগ করে দিতে মাঠ ছেড়ে দেয়। কিন্তু মহাজোটের অন্যতম শরিক জাসদের রেজাউল করিম তানসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জাপার প্রার্থীকে হারিয়ে তিনি সাংসদ হন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুই দিনের সবচেয়ে চর্চিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো হিরো আলম। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আলমের ভিডিও ও ছবি। কিন্তু কে এই হিরো আলম?

ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সাথে চলা আলমের পরিবার তাকে আরেক পরিবারের হাতে তুলে দেয়। আলম চলে আসেন একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাসায়। আব্দুর রাজ্জাক তাকে ছেলের মতো করেই বড় করে তোলেন। স্নেহ করতেন। কিন্তু গ্রামে অভাব তো প্রায় মানুষের আছে। আলমের পালক পিতা আব্দুর রাজ্জাকের সংসারও অভাবের ছোঁয়া পায়। স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আলমকে নেমে পড়তে হলো জীবিকা নির্বাহের তাগিদে। সিডি বিক্রি থেকে আলম ডিশ ব্যবসায় হাত দিয়ে সফলতা অর্জন করেন। তার মাসে আয় ৭০-৮০ হাজার টাকা।

দৈনিক খবরের আলো পত্রিকায় হিরো আলম বললেন , আমি আমার গ্রামের সবার ভালোবাসা পেয়েছি। এই ভালোবাসা আমাকে নিজের হাতে করে খেয়ে বাঁচতে শিখিয়েছে। এখন আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুখেই আছি।”সামনের কোরবানির ঈদে আমার নতুন সিনেমা আসতেছে যার নাম – সাহসী হিরো আলম।

Related posts

Leave a Comment

WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com