সারাদেশ 

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে মতানৈক্যে বিএনপি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে মতানৈক্যে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নেতিয়ে পড়া বিএনপি কিছুটা প্রাণশক্তি সঞ্চারের জন্য এবং বিতর্ক এড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দলটি সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, রাজপথে আন্দোলনের দিকে নজর না দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি দেয়ায় তা দলের মধ্যে অতি আদিখ্যেতা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ নিয়ে মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়েছে দলটির নেতারা।

রোববার (১৭ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে মির্জা ফখরুলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। যা এখন চলমান। এরই মধ্যে স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে ৭ দিনের কর্মসূচি ফখরুলের সিদ্ধান্তকে আরও কিছুটা বিতর্কে ফেলেছে। দলের সিনিয়র অনেক নেতাই বলছেন, কেবল স্বাধীনতা দিবস পালন করা নিয়ে কর্মসূচি না দিয়ে ২৬ মার্চকে উপজীব্য করে আন্দোলনের ডাক দিলেও তা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো কাজ হতো। কিন্তু তা না করে সাদামাটা কর্মসূচি দেয়ায় তা বিতর্কিত হয়ে গেলো। এটি কেবল সরকারের মনোরঞ্জনের কৌশল বলেই রাজনৈতিক মহলের বিবেচনায় আসবে।

এ প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, স্বাধীনতা দিবস পালন করার বিষয়টি সত্যিই ইতিবাচক দিক। কিন্তু যেহেতু আমরা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধরাশায়ী অবস্থায় পড়ে আছি, সুতরাং স্বাধীনতা দিবস পালনের উদ্দেশ্যে কর্মসূচি ঘোষণার সময় আমাদের না। দলের মহাসচিবের উচিৎ ছিলো- স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে কর্মসূচির পরিধি আরো একটু বিস্তৃত করা। সারাদেশের নেতা-কর্মীদের এক করে এটিকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রূপান্তর করা যেতে পারতো। যে যার মতো করে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিষয়গুলো স্থূল হয়ে পড়ছে।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কর্মসূচি নিয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু কর্মসূচির ফলপ্রসূতা নিয়ে দ্বিমত আছে। এরকম অপোক্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিতে দলীয় ও সাংগঠনিক মতবিরোধ ক্রমেই পোক্ত হচ্ছে। আমাদের স্থায়ী কমিটি আছে, কিন্তু কার্যকারিতা নেই। যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে নিলে তা ফলপ্রসূ হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয় উল্টোভাবে, যে যার মতো করে। এতে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণ আবশ্যক।

এমন প্রেক্ষাপটে দলের অধিকাংশ নেতারাই মনে করছেন, এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তগুলো সকলের সম্মতিক্রমেই আসা উচিৎ। নইলে দলের অবস্থা আরও নাজুক হবে। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ না করলে দুর্দশা কিছুতেই ঘুচবে না। এদিকে স্বাধীনতা দিবস পালনে বিএনপির কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজনীতি সচেতন সুশীল সমাজ।

Related posts

Leave a Comment

WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com