সারাদেশ 

সীমান্তে বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: মানুষের বাড়ি গিয়ে গরু তল্লাশি নয়, বিজিবি সদস্যরা এখন থেকে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, এমনকি গরু কোন দেশ থেকে এসেছে, তাও পরীক্ষা করবে না।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সীমান্তবর্তী এলাকায় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভারতের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় আছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ রকম সুসম্পর্ক আর ছিল না।

এত সুসম্পর্কের মধ্যেও কেন সীমান্ত হত্যা বেড়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে আমাদের লোকেরা সীমান্ত এলাকায় চলে যায়। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিজিবি সতর্কতার জন্য ফায়ার ওপেন করে।

ঠাকুরগাঁওয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সংঘর্ষের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে বিষয়ে বিজিবি পক্ষ থেকে নিজস্ব একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট কিছু কিছু আসছে আবার কিছু বাকি রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এই তদন্ত রিপোর্টগুলো মামলার আলামত হিসেবে গ্রহণ করে কাজ করা হবে।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক বিজিবি সদস্য জড়িত বলে আমরা শুনেছি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক কিছুই শুনছেন, সে বিষয়ে আমি সবসময় একটা কথাই বলি, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। যেই এই কাজটি করেন, আমরা প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেই। বিজিবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও আপনারা সেগুলো দেখছেন না। কারণ, বিজিবির নিজস্ব আইন রয়েছে। তাদের ক্লোজ করে তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হয়।

সভায় সবার কথা শুনে সমাপনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে ডিসি-ডিএম, বিজিবি-বিএসএফ, মন্ত্রী-সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, নিয়মিত হচ্ছে। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। তবে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা। যদিও সুনির্দিষ্ট কারণে গত ২ মাসে সীমান্ত হত্যা বেড়েছে।

দেশের মাদক সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, মাদক দেশে তৈরি হয় না। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসে। আমরা ভারতকে সীমান্তবর্তী ফেনসিডিলের কারখানাগুলো বন্ধ করার অনুরোধ করেছি, ভারত এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির কাছে আমি নিজে বলেছি, তাদের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে (বিজিপি) বলা হয়েছে, কিন্তু তারা মাদক বন্ধে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এ বিষয়ে তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করলেও মিয়ানমার এতে স্বাক্ষর করেনি। তবে আমরা আরও বিকল্পভাবে দেশকে মাদকমুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা মসজিদ, মাদরাসাসহ উপাসনালয়গুলোর মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলাচ্ছি। এতে মাদকের চাহিদা হ্রাস করানোর চেষ্টা করছি আমরা।

মাদক ও মানব পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে এই মতবিনিময় সভা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সভায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৩২টি এলাকার জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment

WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com