আন্তর্জাতিক 

শেখ হাসিনার মুকুটে নতুন পালক, জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বসেরা চিন্তাবিদদের তালিকায়

শেখ হাসিনার মুকুটে নতুন পালক, জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বসেরা চিন্তাবিদদের তালিকায়

তিন যুগ ধরে বাংলাদেশের প্রবীণতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর এখন পার করছেন চতুর্থ মেয়াদ। আশির দশকে যেমন তিনি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছেন দলকে, তেমনি একটি অনুন্নত দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যে কারণে জাতীয়-আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার আর স্বীকৃতি রয়েছে তার ঝুলিতে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে একইসাথে মানবিকতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়ায় এবার শেখ হাসিনার মুকুটে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি পালক। জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের সেরা দশ চিন্তাবিদের তালিকায়।

খুন-ধর্ষণ-বর্বর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়-সেবা দিয়ে বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ মিডিয়া চ্যানেল ফোর তাঁকে আখ্যায়িত করেছে ‘মানবতার জননী’ হিসেবে। তিনি সর্বহারা রোহিঙ্গাদের পরম মমতায়, মাতৃস্নেহে যেভাবে আঁকড়ে ধরেছেন সেই দৃশ্য বিশ্ববাসীকে বিমোহিত করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ফরেন পলিসি’ বিশ্বের সেরা চিন্তাবিদদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। সাময়িকীটি তাদের ১০ম বার্ষিকীর বিশেষ সংস্করণে এসব চিন্তাবিদের নাম ও কাজের বর্ণনা প্রকাশ করেছে। সেখানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১০ বছরে বিশ্বের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০টি বিভাগে ১০ জন করে সেরা ব্যক্তিত্ব বেছে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ১০০ জনের তালিকা। শেখ হাসিনা তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার কারণ হলো, গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বসবাসের জায়গা করে দেওয়া।

দ্য ফরেন পলিসির ওয়েবসাইটে শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা চালায়। আতঙ্কিত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। তাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি। এখন তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কাজ করছেন। নিরাপত্তার কারণে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার পক্ষগুলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরোধিতা করছে। তা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার সরকার লাখো রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সাময়িকী ফোর্বসের করা বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০তম অবস্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা। এছাড়া, ২০১৪ সালে এশিয়ার প্রভাবশালী শীর্ষ ১০০ ব্যক্তির তালিকায় ২২তম অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। যতই দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নিজ আলোয় আলোকিত করে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। আর নিজে হয়ে উঠছেন দেশরত্ন থেকে বিশ্বরত্ন।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com