রাজনীতি 

বেগম জিয়ার ভর্ৎসনায় বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন মওদুদ আহমেদ!

বেগম জিয়ার ভর্ৎসনায় বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন মওদুদ আহমেদ!

নিউজ ডেস্ক: ১ বছর পার হলেও বেগম জিয়াকে জামিনে মুক্ত করার ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারছেন না তার আইনজীবীরা। যার কারণে খালেদা জিয়া মওদুদ আহমেদকে তার মামলার আইনি সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ত্যাগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন সিনিয়র আইনজীবী মওদুদ আহমেদ।

মওদুদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে কাজ করা জুনিয়র এক আইনজীবী তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই জুনিয়র আইনজীবী বলেন, ১১ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ১১ আইনজীবী দেখা করতে যান। এ সময় ম্যাডাম মওদুদ আহমেদকে প্রশ্ন করেন, তিনি কখন ম্যাডামকে কারাগার থেকে বের হতে পারবেন। এমন প্রশ্নে মওদুদ আহমেদ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যার ফলে ম্যাডাম এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মওদুদপন্থী আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জেল থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার পুরো দায় মওদুদ স্যারের উপর চাপিয়েছেন ম্যাডাম। অথচ মওদুদ স্যার কোন কমতি রাখছেন না ম্যাডামের মুক্তির বিষয়ে। কিন্তু খালেদা ম্যাডাম পরিস্থিতি না বুঝেই মওদুদ স্যারকে দলীয় এবং তার মুক্তির যেকোন বিষয়ক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন ম্যাডামকে কারাগার থেকে বের করতে। কিন্তু এরপরও যদি ম্যাডাম না বোঝেন, তবে সেটা খুব দুঃখজনক ব্যাপার হবে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পর রাগে-ক্ষোভে দল থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মওদুদ আহমেদ। আমি স্যারকে আপাতত মাথা গরম করে সহসাই দলত্যাগ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তবে স্যার যে ধাঁচের মানুষ, তাতে তিনি দল ত্যাগ না করে ক্ষান্ত হবেন না। বিষয়টি নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে মওদুদ আহমেদের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় বলেন, মওদুদ আহমেদ বিএনপির জন্য এত কিছু করেও উপযুক্ত মর্যাদা পাচ্ছেন না। বিষয়গুলোতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে চাচ্ছেন, এমন গুঞ্জন আমিও শুনেছি। জাতীয় পার্টির সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক আগে থেকেই ভালো। জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে অবশ্য তিনি বেশি সম্মানিত হবেন।

এদিকে ১০ মার্চ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, `আপনি আপনার ঘরে ফিরে আসুন। আপনাকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হবে। বিএনপিতে আর কত অপমানিত হবেন?’

জাতীয় পার্টির সেই নেতার প্রস্তাবের পর বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, জাতীয় পার্টির এই কথার পর মওদুদ সাহেবের রাজনীতি আর বোঝার বাকি থাকে না। এখন আমাদের কাছে সব কিছু ক্লিয়ার হয়েছে। কেন ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে এতো দেরি হচ্ছে? ইতিহাস সাক্ষী, মওদুদ সাহেবের রাজনীতি মানেই বেইমানির রাজনীতি। দলকে বিপদে ফেলে তিনি এখন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিবেন, এটা তো অনুমেয় ছিল।

বিএনপির রাজনীতি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলীয় কোন্দল লেগেই রয়েছে। কেউ তারেক-রিজভীপন্থী, কেউ বা আবার মওদুদ-ফখরুলপন্থী। রাজনৈতিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মওদুদ আহমেদ সুবিধা মতো এরশাদের দলে যোগ দিলে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক মাঠে একা হয়ে পড়বেন। ফলে যেকোন সময় তার মহাসচিব পদটিও চলে যেতে পারে এবং নতুন মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর নাম সামনে আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com