সারাদেশ 

প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি

প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজন নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি

প্রশ্নফাঁস সরকারের অসংখ্য উন্নয়ন ও মানব কল্যাণের অর্জনে কালিমা লেপন করছে। ভালো কিছুর চেয়ে মন্দটা এ দেশের মানুষের চোখে আগে পড়ে। মন্দচর্চা আমাদের মজ্জাগত স্বভাব। সুতরাং প্রশ্ন ফাঁসের রোগটি বহুল আলোচিত ও নিন্দনীয় হচ্ছে। পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গড়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।

একজন শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষায় সহজভাবে উত্তীর্ণের উপায় হিসেবে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যায়, তখন অর্জিত-শিক্ষা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ আর মনুষ্যত্ব থেকে সে হয় বিচ্যুত, তার পথ-চলার শুরুটাই হয় একটা মিথ্যা-ফাঁকির মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে জীবনাভিজ্ঞ অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের সবচেয়ে ভাল ফলের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে এতটাই উদগ্রীব হয়ে পড়েন যে অনেক সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিচলিত না হয়ে, অর্জিত মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে, ন্যায়-অন্যায়কে চুলোয় দিয়ে বহুমাত্রিক উপায়ে ফাঁসকৃত প্রশ্ন সংগ্রহ করে সন্তানের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এভাবেই প্রথম জীবনেই শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবার থেকেই দুর্নীতির সম্মতি পাচ্ছে, পাচ্ছে সহযোগিতা ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্বের পথে ফিরে আসা কতটুকু সম্ভব?

এভাবে প্রশ্নফাঁস হতে থাকলে জাতি পর্যবসিত হবে গভীর সঙ্কটে। শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোটি ভেঙ্গে পড়বে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে, মেধাবীরা পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং ফাঁসকৃত প্রশ্নের আশায় তারা বই-খাতা-কলম ফেলে অনৈতিক পথে হাঁটবে কিংবা অধ্যবসায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে শর্টকাট পথে সবচেয়ে ভাল ফলাফলের নেশায় আক্রান্ত হবে।

অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক এই তিনটির মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। শিক্ষক হলো নৈতিক মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার অনন্য কারখানা। শিক্ষা ভালো-মন্দ বিচার করতে শেখায়। আর এই ভালো-মন্দের বিচার নৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানুষের উপযোগী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নৈতিক মূল্যবোধের কোনো বিকল্প নেই। নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবেশ ও রাজনীতিসহ সর্বত্র মানবজীবন ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

প্রশ্নফাঁস রোধে এই নৈতিক মূল্যবোধের কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নেওয়াপদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং রাষ্ট্র এই চারের সমন্বয়ে এই সমাজ থেকে বিলুপ্ত হবে প্রশ্নফাঁস, দেশ ও জাতি মুক্তি পাবে এক কলুষিত অভিশাপ থেকে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com