আন্তর্জাতিক 

প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফর: কী পেলো বাংলাদেশ?

প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফর: কী পেলো বাংলাদেশ?

টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছেন শেখ হাসিনা। তার এই সফরে দেশটির সঙ্গে প্রথমবারের মতো ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের দুয়ার ফের উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-আবুধাবি সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে, সম্পর্কের পালে যুক্ত হবে আরও একটি পালক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

চারটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টরে বিনিয়োগ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই ধাপে ৮০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াটের এলএনজি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ এবং ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সেখানে ৩০০ একর জমি বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া বন্দর উন্নয়ন, মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, রেল, বিদ্যুৎ-জ্বালানি এবং পর্যটনসহ আরও কয়েকটি সেক্টর সহযোগিতায় বাংলাদেশের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি ও দুবাই সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমবাজারের দুয়ার উন্মুক্ত হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। এর আগে ১৯ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিগত ২০১২ সালের আগে দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিক কাজ করতে যেত। আশা করা হচ্ছে, এবারের সফরে সব ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ বিষয়ে সুখবর আসবে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন – “চিকিৎসা ও প্রকৌশলসহ বেশকিছু খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা উন্মুক্ত রয়েছে। গত বছর আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউএই সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় সে দেশে অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে দেশটিতে বাংলাদেশিদের আরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরিতে অবদান রাখবে বলে আশা করছি।”

প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব এই আমিরাত সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে উক্ত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com