রাজনীতি 

পুরনো বোতলে নতুন মদ নিয়ে ফিরছে জামায়াত

পুরনো বোতলে নতুন মদ নিয়ে ফিরছে জামায়াত

পুরনো বোতলে নতুন মদ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী! অবাক হচ্ছেন? জামায়াত তো ইসলামী সংগঠন, তারা কীভাবে এই কাজটা করছে? ঘটনা আসলে মদঘটিত ব্যাপার না হলেও এই কথার অর্থ একই। অর্থাৎ নতুন মোড়কে আসছে জামায়াত ইসলামী। সরকার জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করলে সেক্ষেত্রে নতুন দল গঠন করার চিন্তা ভাবনা করছে স্বাধীনতাবিরোধী এই সংগঠনটি। তবে নতুন দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিলেও সংগঠনের নামের শেষে ইসলামী যোগ করার চিন্তা থেকে সরে আসছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর মূল নীতির সাথে নতুন দলের কোনো নীতি পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

মূলত দলের যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিনিয়র নেতাদের ফাঁসি, রাজনৈতিক মামলা ও ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা জামায়াতে ইসলামী ঘুরে দাঁড়াতে নতুন নামে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি। স্বাধীনতার বিরোধিতা করায় জনগণের কাছে ক্ষমা না চাওয়া ও যুগোপযোগী সংস্কার আনতে না পারায় সম্প্রতি দলের সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক পদত্যাগ করেন। একই দাবি নিয়ে সরব শূরা সদস্য মজিবুর রহমান মঞ্জুকেও বহিষ্কার করে জামায়াত। এরপরই জামায়াতে ইসলামীর নাম পাল্টে নতুন নামে আত্মপ্রকাশের বিষয়টি চাউর হয়।

জামায়াতে ইসলামীর একাধিক ইউনিটের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জামায়াতে ইসলামী নতুন দল গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির প্রধান করা হয় দলের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানকে। যদি জামায়াতে ইসলামীকে সরকার নিষিদ্ধ করে তবেই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ও কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসবে। তার আগে নতুন নামে প্রকাশ্যে আসতে চায় না দলটি। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর স্বাভাবিক সক্রিয়তা চলমান থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করলেও বিলুপ্ত হবে না জামায়াত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যদি আদালত জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তবেই নতুন দল কার্যক্রম শুরু করবে। তবে বিলুপ্ত হবে না জামায়াত। বরং নতুন দলে জামায়াতেরই কর্তৃত্ব ও প্রভাব থাকবে।

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতার বিচার এবং মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা হয়েছে। এ জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের পর মতিউর রহমান নিজামী,আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, এবং মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মতো পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

তবে একাধিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দূর করার জন্য ও দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বয়ে আনার জন্য জামায়াতের সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। জামায়াত যতই নতুন দল করুক না কেন তারা তাদের আদর্শ কোনোভাবেই বদলাবে না। তাই এখন যত দ্রুত সম্ভব জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এতে করেই দেশে শান্তি বয়ে আসবে।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com