সারাদেশ 

পরিবেশ রক্ষায় কঠোর প্রধানমন্ত্রী, বর্জ্য শোধনাগার ছাড়া শিল্পনগরী অনুমোদন পাবে না

পরিবেশ রক্ষায় কঠোর প্রধানমন্ত্রী, বর্জ্য শোধনাগার ছাড়া শিল্পনগরী অনুমোদন পাবে না

শিল্পনগরীর কলকারখানাগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করার ফলে বছরের পর বছর ধরে কারখানার নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যে ও বিষাক্ত পানিতে দূষিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা নদী-নালাও। ছেড়ে দেওয়ায় শিল্প কারখানাগুলোর এসব কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে পানির রং নষ্ট করাসহ দুর্গন্ধ সৃষ্টি করেছে। এখনই শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কাজ বন্ধ না করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কার কথা শুনিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নানান উদ্যোগ গ্রহণ করলেও টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরপরই পরিবেশ রক্ষায় নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের এক বক্তব্যে তিনি প্রতিটি শিল্পনগরীতে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, বর্জ্য শোধনাগার ছাড়া শিল্পনগরী স্থাপনের কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। আর যে সকল এলাকায় প্রকল্পের আওতায় কোনো ইটিপি ছিল না। দ্রুতই ওই সকল প্রকল্প এলাকায় ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনেক সময় দেখা যায় এক শ্রেণির অসাধু শিল্প মালিক প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ই সরকারি ভূমি বা জলভূমি অবৈধ জবর দখলের মাধ্যমে ভরাট করে ব্যবহার করতে থাকে।

এ ক্ষেত্রেও নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প বাস্তবায়নে জলাভূমি ভরাট না করার নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণে সবসময় তিন গুণ দাম দিতে হবে। অনেকে পিতা-মাতার স্মৃতিবিজড়িত জমি দিতে চায় না, তাদের ওপর জোড় করা যাবেনা। উন্নয়ন প্রকল্পের মান ঠিক রেখে কাজের গতি বাড়াতে হবে। আরও দ্রুত কাজ করতে হবে। মানও বাড়াতে হবে। এছাড়া অনুমোদনের পর থেকেই যেন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়, সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক টাকার জমি তিন টাকা দিয়ে অধিগ্রহণ করলে তাতে সবাই জমি দিতে উৎসাহিত হবে।

সূত্রে জানা যায়, একনেকে ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় কোনো ইটিপি ছিল না। সেজন্য দ্রুতই ওই প্রকল্প এলাকায় ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিল্পনগরী যেখানেই করা হোক, সেখানেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার তাগিদ দেন তিনি।

সরকারি বিধি-বিধান ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শিল্পকারখানার সঙ্গে একটি শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে শত শত শিল্পকারখানা। এরমধ্যে কোনটা সরকারি নিয়ম মেনে পরিকল্পিতভাবে তৈরি হয়েছে, কোনটা মানেনি সরকারি নিয়ম। যার মধ্যে সব থেকে ক্ষতিকর বিষয়টি হচ্ছে শিল্পকারখানা গড়ার পরও অধিকাংশ শিল্প কারখানায় বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবহার না রাখা। ফলে নদীমাতৃক এই দেশের বিভিন্ন খাল, বিল, নদী-নালায় বর্জ্য প্রবাহিত হয়ে কৃষি জমি ও পানিতে দূষণ সৃষ্টি করছে।

পাশাপাশি অল্পসংখ্যক কারখানায় ইটিপি থাকলেও কর্তৃপক্ষ টাকা বাঁচানোর জন্য প্ল্যান অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখে। এ কারণে কারখানাগুলোর বর্জ্য সরাসরি খাল, বিল ও নালা দিয়ে নদীতে গিয়ে পড়ছে। পড়ছে ফসলি জমির ওপরও। ফলে ফসলি জমিতে আগের মতো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। খাল বিলের পানি ঘন কালো বর্জ্য পদার্থ মিশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় সর্বক্ষণ বিলের ফসলি জমির মাটি কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে আবৃত হয়ে ফাঁপা অবস্থায় থাকে এবং এসব কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোন কোন বিলে ধান উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। স্থানীয় জেলেরা পাচ্ছেনা মাছ।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com