অপরাধ ও দুর্নীতি 

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত রুহুল আমিনের কলুষিত রাজনৈতিক চরিত্রের তথ্য ফাঁস

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত রুহুল আমিনের কলুষিত রাজনৈতিক চরিত্রের তথ্য ফাঁস

নিউজ ডেস্ক: মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড মামলায় রুহুল আমিনকে একতরফা দোষারোপ করে আওয়ামী লীগের বদনামে ব্যস্ত একটি চক্র। অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যানুযায়ী, রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে পটু রুহুল আমিন। তিনি নিজাম হাজারী এমপির আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে অনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাদেরও পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।

তথ্য অনুযায়ী, রুহুল আমিন ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করেন। এরপর ২০০৯ সালের পর তিনি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে গোপনে সম্পৃক্ত হন। প্রায় তিন বছর পরে হঠাৎ আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন রুহুল আমিন। এ সময় দলের অন্যান্য নেতারা এর ঘোর বিরোধিতা করেন। অনেক তদবির করে অবশেষে ২০১৩ সালে সোনাগাজী আওয়ামী লীগের সদস্য হন। এরপর ২০১৬ সালে নিজাম হাজারী এমপির আশীর্বাদে সোনাগাজী আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি সোনাগাজী আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

জানা গেছে, তারা তিন ভাই। তাদের মধ্যে দুই ভাই’ই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বড় ভাই আবুল কাসেম মার্কিন অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সক্রিয় সদস্য। ছোট ভাই সুফিয়ান বর্তমানে সোনাগাজী স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। মূলত তিন ভাই মিলে বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় থেকে আওয়ামী লীগ থেকে ফায়দা লুটতেই সরকার দল ও বিরোধী দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত।

তথ্যসমূহের সত্যতা নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, অর্থের প্রভাব খাটিয়ে রুহুল আমিন বিভিন্ন সময় নিজেকে জাহির করেছেন। দলে তার সভাপতিত্ব নিয়েও আমরা কেউই সন্তুষ্ট ছিলাম না। কিন্তু নানান চাপে তাকে আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। এখন কেবল তার কারণেই দলের বদনাম হচ্ছে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। আমরাও চাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কেননা, তিনি আওয়ামী লীগের বেশধারী একজন বিরোধী দলীয় নেতা।

জানা গেছে, তার পরিবারের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। রুহুল আমিন সেই সুবাদে বছরে অন্তত দুইবার যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ বলেও জানা যায়। তিনি সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের নেতা খোরশেদ আলম এবং কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী দুলালের ঘনিষ্ঠ। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এমন অনেকেই অবৈধ কাজ করে যাওয়ার সাহস পেতো। তাদের মাধ্যমে ফায়দা লুটতো এই রুহুল আমিন।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com