সাহিত্য ও সংস্কৃতি 

দুই হাজার পঞ্চাশ সালে বাংলা সাহিত্য – রীনা তালুকদার

দুই হাজার পঞ্চাশ সালে বাংলা সাহিত্য

রীনা তালুকদার


পৃথিবীর একটি ল্যান্ডমার্ক হিসাবে এক সময় পৃথিবীতে জনসংখ্যা ১ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিজ্ঞানী, গবেষকরা এখনই ভাবতে শুরু করেছেন কেমন হতে পারে ৩৪ বছর পরের পৃথিবী। কোনদিকে যাচ্ছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। ২০১৮ থেকে বত্রিশ বছর পর অর্র্থাৎ ২০৫০ সালে গল্প, কবিতা, মুক্ত গদ্য কেমন হবে সে আলোচনার আগে বলতে হয় লেখার জন্য যে সব উপকরণ রয়েছে প্রকৃতিতে, মানুষের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত এবং স্বয়ং মানুষের মন ও মেধা কি অবস্থায় পৌঁছাবে। সেটি মুখ্য বিষয় মনে হচ্ছে। কেননা সাহিত্য নিরেট শুধু অভিধানগত শব্দ বসালেই হয়ে যায় না। নানা উপকরণে সমৃদ্ধ করেই সাহিত্য গড়তে হয়। বলা যায় পৃথিবী যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই আশা ও আশংকা দুই-ই এগিয়ে যাচ্ছে মানুষের মন ও মেধার তালে তাল সামলিয়ে। নি:সন্দেহে বলা যায় সাহিত্যের জায়গাটি হবে ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক। একটা সময় ছিল যখন কম্পিউটারের কথা চিন্তাতেই আসেনি। ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে লিখতে পারবে, লেখা ষ্টোর করে রাখতে পারবে বা লেখা পড়তে পারবে এটাও মানুষের চিন্তায় ছিল না। অথচ বর্তমানে কম্পিউটার কত আপডেট হয়েছে কাজের ক্ষেত্রে। মোবাইলের ছোট ডিভাইসে কত হাজার হাজার তথ্য ধারণ করে। যা প্রয়োজন মত কাজে লাগানো যাচ্ছে। জানা ও পড়া যাচ্ছে বিশ্ব সাহিত্যের নানান তথ্য ও উপাত্ত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সাথে সাথে মানুষের দৈনন্দিত চাহিদা বৃদ্ধি ও আরাম আয়েশে উন্নততর ভাবনা বেড়ে গেছে এবং যাবে। মানুষ আরো সহজ সরল ও কম সময়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। সেখানে রোবট গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং করবে। এমনও হতে পারে মানুষের পাশাপাশি রোবটের আবেগের লিম্বিক সিস্টেম তৈরীর মাধ্যমে লেখালেখির আবেগ তৈরীর করে কবিতা, গল্প, নাটক ইত্যাদি লেখানোর চেষ্টা চলবে। বর্তমানে রোবট নিজে থেকে অনেকটা কথা বলা, প্রশ্নের উত্তর এবং দৈনন্দিন বাসা বাড়ির কাজ ও রেস্টুরেস্ট সার্ভিস দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও রোবটকে দিয়ে এক বিস্ময়কর অবদান রাখার চেষ্টা অব্যাহত ভাবে চলছে। চিকিৎসাজগতের বিস্ময়কর পরিবর্তন সুচিত হবে। কলকারখানায় রোবট কাজ উপযোগী হয়ে উঠবে। এতে মানুষের কাজের গতি বেড়ে যাবে। মানুষের অসাধ্য রোবটের মাধ্যমে সাধন করাবে। ফলে মানুষের পরিশ্রম কম হবে। এতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হবে। কবিতা, গল্প, নাটক, সিনেমার দৃশ্য পট আমূল বদলে যাবে। কবিতা ও গল্পে উপমার বিষয় বদলে যাবে। অলংকার বিন্যাসে নতুন বৈজ্ঞানিক শব্দ যুক্ত হবে। যা আমরা ইতোমধ্যেই করছি। ফলে কবিতা, গল্প, উপন্যাস সহ সাহিত্যের সব দিকে আঙ্গিক বদলে গিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক সাহিত্য জগত সৃষ্টি হবে। আজকে যেটি কল্প বিজ্ঞান সেটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে। একই সাথে মানুষ আরো বেশী স্বপ্ন দেখতে কল্প বিজ্ঞান অন্যরকম ভাবে চিন্তা করবে। আর সেটিও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে থাকবে। মানুষের জৈবিক চাহিদা মেটাবে রোবটের মাধ্যমে। মানুষের মতই রোবট যৌন আচরণ করতে পারবে। মানুষের মত অনুভূতি থাকবে। বুদ্ধিমত্তার সাথে কথাবার্তা চালানোর পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও তৈরি করবে। প্রেমিক -প্রেমিকা হতে পারবে রোবট। এমনও হতে পারে তারা সন্তান জন্মদানে সক্ষমতা অর্জন করবে। বর্তমানে রোবট গাড়ী চালাতে পারে। একসময় কল কারখানা ও হাসপাতাল চালাবে রোবট। ২০৪৫-২০৫০ সালের মধ্যে সহজ ভাষায় প্রযুক্তি বিজ্ঞানে যখন কম্পিউটারের বুদ্ধিমত্তা মানব বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করবে এবং যার ফলে একটি শক্তিশালী সুপারিনটেনশান তৈরি হবে যার ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি হবে। যা ২০৪৫ এর মধ্যে সম্ভব হবার আশা করা যায়।

মানুষ অপার আশায় বাঁচে। তবে আশার কথা, মানুষ এই সময়েই পাবে উন্নত ভ্যাকসিন বা টিকা। রোগ মোকাবিলায় মানুষ আশাতীত সাফল্যের দেখা পেতে পারে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮০ বছরের কাছাকাছি। শিশুমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে যাবে। গবেষকরা আশাবাদী শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে চমকপ্রদ এক পৃথিবীর সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করে দেবে ২০৫০ সাল নাগাদ। এই সুফল পরবর্তী ২০ বছর ভোগ করতে পারবে পৃথিবী। এইচআইভি ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি পুরোপুরি নিরাময় করা যাবে। এছাড়া মস্তিষ্কের রোগেও মানুষকে আর ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে না বলে দাবি করেন গবেষকরা। ২০৪৫ সালের মধ্যেই মানুষের মস্তিষ্ক মানচিত্র তৈরি ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে সহজেই মানুষের স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণ করা ও চিন্তশক্তির পূর্ণ ব্যবহারে যুগান্তারী সাফল্য আসতে যাচ্ছে। মানুষের মস্তিষ্ক তখন কম্পিউটারের মতোই নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করা যাবে। চাইলে যে কেউ তার স্মৃতি কম্পিউটারে জমা করে রাখতে পারবে। অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও দেখা মিলবে অবিশ্বাস্য প্রযুক্তির। বর্তমান পৃথিবীতে যা অবিশ্বাস্য ২০৫০ সালে তা হবে একেবারেই সাদামাঠা ব্যাপার। এখন মানুষের হাত-পা প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থেকে আরও উন্নত হবে চিকিৎসা জগৎ। তখন মানুষের হৎপিন্ড ও মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনেও সাফল্য আসতে পারে। রোবোটিক হাত-পা ব্যবহার করতে পারবে মানুষ। অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুপার্ট বোর্নি বলেন, “দৃষ্টি সামান্য ঝাপসা হয়ে এলেও একজন মানুষের জীবনে যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। “উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিষয়টি তাদের স্বাধীনতা সীমিত করে দিতে পারে তাদের অনেকেই আর চোখের সমস্যার কারণে গাড়ি চালাতে পারেন না।” আগামী দিনের ঝুঁকি কমাতে চোখে কৃত্রিম লেন্স বসানোর মতো চিকিৎসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি যথাযথ চশমার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে বলছেন গবেষকরা। বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধে কাজ করা দাতব্য সংস্থা সাইটসেভারস বলছে, চোখের লেন্স ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় তা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে- এমন অবস্থা দিন দিন বাড়ছে। এ সংস্থার সদস্য ইমরান খান বিবিসিকে বলেন, বয়স্ক মানুষ ও দীর্ঘদিন রোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় দরিদ্র দেশগুলোতে অন্ধত্বের সমস্যাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।” মানুষ জিন সম্পাদনা করে নীরোগ, নির্মেদ (অবশ্যই নির্লোভ নয়) আদর্শ মানুষ তৈরি করার বিদ্যা মানুষ আগামী ৫০ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে খুব ভালোভাবেই রপ্ত করবে। ক্রিস্পার ক্যাস ৯-এর (CRISPR-Cas9) মতো জিন এডিটিং টুল এখনই চলে এসেছে। আর ক্যানসারের নিরাময়ে অর্জিত অগ্রগতির কারণে বয়স ১০০ বছরের নিচে কেউ আর ক্যানসার রোগে হয়ত মারা না। কাজেই মানুষের গড় আয়ু আরো বাড়বে, যদিও গত দেড়শ বছরে ধরে বেড়েই এসেছে। আগামী দেড়শ বছরের মধ্যে মানুষ সিঙ্গুলারিটি পয়েন্টে, অর্থাৎ মানুষ অমরত্ব লাভ করতে পারে। উনিশ শতকে মানুষ গড়ে মাত্র ৩৭ বছর বাঁচত, বর্তমানে ৭৮ বছর। কাজেই সিঙ্গুলারিটি পয়েন্টে পৌঁছাতে না পারলেও আগামী ১৫০ বছরে গড় আয়ু বেড়ে ১০০ পার করতে পারে। ২০৩৫ এর মধ্যে মানুষ বায়োনিক চোখ ব্যবহার করবে। এই বায়োনিক চোখ মানুষকে ইনফ্রারেড ও অতিবেগুনী আলো দেখতে সক্ষম করবে। এই ধরনের আবিষ্কার ধীরে ধীরে মানুষ এবং মেশিনের পৃথকীকরণকে সরিয়ে ফেলবে। তবে চিকিৎসার বিজ্ঞানের অভাবনীয় সাফল্য আসলে এসব সমস্যা সমাধান খুব সহজ হবে। আর চোখ না থাকলে মানুষ ও কবি লেখক এত সুন্দর প্রকৃতি দেখবে কিভাবে। তাই এই দিকে উন্নতি হবেই। কবি, সাহিত্যিকগণ নতুন নতুন বিষয়ে অবতারণা করবেন লেখায়।

২০৫০ সালের মধ্যে মানুষকে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্চের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তেল, গ্যাস ও খাওয়ার পানি ফুরিয়ে যাবার আশঙ্কা তো রয়েছেই। সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যেতে পারে। মানুষের জীবন যাপনে আর্টিফিসিয়াল প্রযুক্তির আরো ব্যাপক চাহিদা বাড়বে। একই সাথে এগুলো উন্নত থেকে উন্নতর হতে থাকবে। সুবিধার পাশাপাশি অনেক অসুবিধাতো থাকবেই। তা এক কথায় চিন্তা করা যায়। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ তেল, গ্যাস সহ যাবতীয় প্রকৃতি থেকে লব্ধ সম্পদ সীমিত হয়ে আসছে। মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোর বিকল্প চিন্তা ও আবিস্কার করে যাচ্ছে। জলবায়ু সংকট একটা ভীষণ রকম চ্যালেঞ্জ আগামী শতাব্ধীতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরণ বদলে গেছে। সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেই জন্য আরো শক্তিশালী ঝড় পৃথিবীকে আমূল বদলে দিতে পারে। মহাদেশ সমূহের ভূ-ত্বকের গঠন বদলে গেছে। যানবাহন গুলো ভিন্নতর হবে দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে। একই সাথে জলে, স্থলে ও আকাশে উড়বে। মানুষ একশভাগ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। ২০৫০ সাল নাগাদ ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে বিশ্বের সর্বত্র। ফোরাম ফর দি ফিউচার ফাউন্ডারের গবেষক জোনাথন পোরিট ধারণা করছেন ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৮ ভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে; যারা অনেকেই সংযুক্ত হবেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে উৎপাদনে রোবটের ব্যবহার এমন একপর্যায়ে পৌঁছতে পারে যে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ধনী দেশগুলোর সম্পদের ব্যবধান আকাশ সমান হয়ে উঠবে।

নগরায়ণ ও শিল্পায়নের প্রভাব পড়বে বনভূমি, কৃষিভূমি, নদী, খাল বিল তথা সভ্যতায়। ফলে মানুষ কৃত্রিমতার দিকেই বেশী রকম ঝুঁকে পড়বে। কত সময়ে কত কম জায়গায় ব্যবহার করে জীবন যাপন নিশ্চিত করা যায়। দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে দ্রুতগতির ট্রেন, উড়ন্ত প্রাইভেট কার, উড়োজাহাজ ও জাহাজ মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। এগুলোর গতি ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটারের মতো হতে পারে। তখন রাস্তায় রাজত্ব করতে পারে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ্চালিত গাড়ি। উন্নত প্লাস্টিক তৈরিতেও উন্নত সংকর ধাতুর তৈরি করতে সক্ষম হবে মানুষ। বিভিন্ন নতুন পদার্থের সন্ধান পেতে পারে। এ সময়ের ব্যবধানে। এগুলো দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য তো বটেই উড়োজাহাজ, রকেট তৈরিতেও মানুষ অভাবনীয় সাফল্য পাবে। কার্বন গ্রাফাইট ব্যবহার করে মানুষ ওজনে হালকা পুরুত্ব অত্যাধিক স্বচ্ছ ধাতুর পাত আবিষ্কার করতে পারে। হয়ত কয়েকশ টন হবে আকাশছোঁয়া দালানের ওজন। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। যেমন তেল, গ্যাস, পানি সহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ যা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে সেগুলো কৃত্তিম ভাবে তৈরী করা হবে। তবে কৃষি জমি কমে যাবে। উৎপাদন ব্যবস্থা দখল করবে হাইব্রিড পদ্ধতি ও ইকো সিস্টেম। অল্প জায়গায় অল্প সময়ে বেশী উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরী হবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও আধুনিকায়ন হবে স্মার্ট গ্রিড সেই পথেরই একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি। পৃথিবীতে শক্তির চাহিদা ক্রমশ: বৃদ্দি পাবে। স্মার্ট গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ অপচয় কম হবে ও পুরো বিশ্ব একটি বৈদ্যুতিক যোগাযোগের মধ্যে আসবে। ফলে সহজেই প্রয়োজন মতো গোটা বিশ্বে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই নেটওয়ার্ক স্মার্ট গ্রিড হিসেবে পরিচিত হবে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর বুকে তেল, গ্যাস, কয়লা বা সোনা খোঁজার মতো মহাকাশের বিভিন্ন জায়গায়, গ্রহে মানুষ খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করবে। পৃথিবীর বাইরে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ ২০৫০ সালেই মিলতে পারে। সুপরিকল্পিত নগরায়ন ও শহরায়ন হবে। বিশাল সমুদ্রকে বসবাসের জন্য বেচে নিবে। সমুদ্রে ভাসমান বহুতল ভবন তৈরী হবে। ইতোমধ্যে নির্মিত হচ্ছে মাসদার সিটি ২০১৭-২০২৫সালের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। ভবিষ্যতের মাসদার শহরটি ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবুধাবি ফিউচার গ্রুপ ১০০% বর্জ্য ও জল পুনর্ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। এটি একটি কার্বন নিরপেক্ষ শহর হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উপর ভিত্তি করে এটি নির্মিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটির একটি বিশাল $২০ বিলিয়ন খরচ হবে, ৫০০০০ মানুষের ঘর থাকবে। গোটা শহরটি প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় একটি আবরণ দ্বারা ঢাকা থাকবে।
নারী পুরুষের সমান অধিকার সর্বত্র বিরাজ করবে। ফলে অর্থনৈতিক সাফল্য আসবে। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটস বলছেন ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীতে কোন গরীব দেশ থাকবে না। মানুষের রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাবে। এসব উপকরণ কবিতা, গদ্য, গল্পের বিষয়বস্তু ও অলংকারিক বিন্যাসে আশ্রয় পাবে।

আগামী দিনের কবিতা, গল্প ও গদ্য সাহিত্য হবে বিজ্ঞান নির্ভর। হয়ত অনেক ভাষা হারিয়ে যাবে। মানুষের মুখের ভাষা বদলে যাবে। বাধা বন্ধন মুক্ত পরিবেশে ভাষার মানসম্মত চর্চা, ভাষার উন্নতি ও সমৃদ্ধ ক্রমবিকাশ ঘটবে। ধর্মের অন্ধত্ব কমে যাবে। মিশ্র ভাষার দৌরাত্মে এক সময় আন্তর্জাতিক ভাবে একটা ভাষা দাঁড়িয়ে যাবে যেখানে মিশ্র ভাষা হিসাবে সেটা সবাই গ্রহণ করবে। একে অপরকে জানার জন্য হয়ত মিশ্র ভাষাটাকেই মেনে নিতে হবে। শুধু মাত্র ইংরেজী, শুধু মাত্র, স্প্যানিশ, শুধু মাত্র বাংলা, শুধু মাত্র ফারসী বা জাপানী ভাষার একক যে ব্যবহার সেটা হয়ত কিছু সংকটের মুখে পড়বে। কেননা প্রত্যেক ভাষাতেই প্রচুর বিদেশী ভাষার শব্দ রয়েছে। সেগুলো গ্রহণের পর এক সময় ধীরে ধীরে স্থায়ী বা স্থিত হয়ে যায়। বাংলার একটা সংগ্রামী ইতিহাস রয়েছে যা পৃথিবীর অন্য ভাষার নেই। সেখানে সংকটা আরো প্রবল। এটি কালের বির্বতনে হবে। বাংলাদেশের লেখ্য, দৃশ্য ও শ্রাব্য গণমাধ্যমে কয়েক বছর ধরে বলা হচ্ছে, বাংলা ভাষা বাংলাদেশের নদীগুলোর মতোই দূষিত হয়ে উঠেছে। এই দূষণ নাকি হচ্ছে প্রধানত তিনটি ক্ষেত্রে ইংরেজি বা আঞ্চলিক ঢঙে প্রমিত বাংলা উচ্চারণে, কথা বলার সময় বাংলা শব্দের পরিবর্তে ইংরেজি-হিন্দি-আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারে এবং বানান বিকৃতিতে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে এফএম রেডিওসহ বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমের দিকে। বাস্তবতা হচ্ছে, গণমাধ্যমে তথাকথিত শুদ্ধ উচ্চারণে প্রমিত বাংলা বলা হলেও ইংরেজি ঢঙে বাংলা বলা বা বাংলায় ইংরেজি শব্দমিশ্রণ বন্ধ হবে না। এফএম রেডিও শুনে মানুষ ভাষা শেখে না, খদ্দের-শ্রোতা।

২০৫০ সালের মধ্যে ভারত হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। আর মাত্র ৩৯ বছরের মধ্যে দেশটি এমন অবস্থানে পৌঁছে যাবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং গ্রুপ সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আগামী ৫০ সাল নাগাদ মানুষের বসবাসের শহর গুলোর চিত্র বিচিত্র ভাবে পরিবর্তন ঘটবে। বিশ্বকে নিয়ে প্রতিনিয়তই মানুষের জল্পনা কল্পনার কোনো শেষ নেই। বিশ্বসেরা ধনী। বিল গেটস বলছে পৃথিবীর কোনো দেশই গরিব থাকবে না ২০৩৫ সালের পর। বিশ্বব্যাপী সম্পদ সংকট ২০৩০ -২০৩৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্য সংখ্যা নিশ্চিত হারে বৃদ্ধি পাবে যেখানে রাষ্ট্র প্রধানগণ কিছুই করতে পারবে না। অর্থাৎ সব বিষয়েই একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রতলের উচ্চতা এতে অনেক শহর ডুবে যেতে পারে। ভাসমান শহর হবে সেই সাথে শহরগুলো মাল্টিস্টোরেড দালানের মতো হতে পারে। পিয়ারসনের দাবি ২০৫০ সাল নাগাদ শহরের দালানগুলো নতুন উচ্চতায় পৌছাবে। কোন কোন ক্ষেত্রে ১৮ মাইল সমান উঁচু হতে পারে। সেগুলো অন্তত ৮ হাজার তলা হতে পারে। বর্তমানে ১৬৩ তলা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা দালানের তালিকায় শীর্ষে আছে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। লম্বা লম্বা দালান তৈরির সক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হলে তাতে খুব দ্রুত পৌছানোর জন্য স্পেস পোর্টসও তৈরি হতে পারে বলে দাবী করেন ওয়ার্ল্ড একাডেমী ফর আর্টস এ্যান্ড সায়েন্সের ফেলো আয়ান পিয়ারসন। স্পেস পোর্ট হলো লম্বা দালান যেখানে আকাশপথের রকেট ওঠা-নামা করতে পারে। পিয়ারসন জানায়, স্পেস পোর্ট থেকে রকেট ওঠানোর মাধ্যমে খুব কম সময়ে আকাশপথে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ। দ্য স্যামসাং এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহদাকৃতির স্বশাসিত ড্রোন মানুষকে দালানের বিভিন্ন তলায় পৌছে দেবে। কারণ লম্বা দালানে লিফট ব্যবহার কঠিন হবে। পিয়ারসন জানান, মুখচোরা শহরে আমরা হয়তো একটি মাত্র দালানে হাজারো মানুষ বসবাস করব। কারণ দালানগুলো অবকাঠামোগতভাবে দেখা যাবে না। সেগুলো স্বতন্ত্র শহরের মতো হবে। পানির নিচে হোটেল এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় সব স্থাপত্য থাকবে। স্যামসাং রিপোর্টে বলা হয়েছে ভবিষ্যতে দেখা যাবে জলজ বাড়ি। তবে সেগুলো অনেক দামী হবে বলে জানান পিয়ারসন। পিয়ারসন পানির নিজের বাড়িগুলোকে মানুষের স্থায়ী বসবাসস্থল না বলে এটিকে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য চিত্তাকর্ষক ক্ষণস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাছাড়া দালানগুলো রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ডিভাইস চার্জ করতে পারবে বলে জানান পিয়ারসন। সুতরাং কোন ডিভাইসই প্লাগের মাধ্যমে চার্জ দেয়া লাগবে না। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনারগাসের মতো কয়েকটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে। রাস্তাতে চলার সময়ই চার্জ হবে চালকবিহীন গাড়ি। ভবিষ্যতে চালকবিহীন বৈদ্যুতিক গাড়িই দেখা যাবে। গুগল এবং টেসলা ইতোমধ্যেই তার আভাস দিচ্ছে। পিয়ারসনের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে চালকবিহীন গাড়ি চালানোর সময় চার্জ দিতে সক্ষম রাস্তা তৈরি হবে শহরগুলোতে। এমনকি, ব্রিটেনে এ ধরণের রাস্তা বানানোর পরীক্ষা চলছে।

সময়ের পরিক্রমায় ২০৫০ সাল পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। অসেক আবর্তন ও বিবর্তনে পৃথিবীর রূপ বদলে যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা ২০৫০ সালের আগেই পৃথিবীতে একাধিক বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত করার কথা জানিয়েছেন। সেই রেশ কাটবে না ২০৫০ সালেও। সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের ভূমিকম্প, সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রলয়ংকরী হ্যারিকেন ও টর্নেডোর কথা বারবার বলছেন গবেষকগণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতি পরিবেশ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, মানব সভ্যতার ওপর বড় ধরনের পরিবর্তন বয়ে আনবে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো। এছাড়া খরা ও বন্যা সরাসরি পৃথিবীবাসীকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। ২০৫০ সালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্চ হয়ে ওঠবে নিরাপদ পানির সংকট ও প্রাকৃতিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। খাদ্য সংকটও প্রবল হতে পারে। ২০৫০ সালে শহরায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে মানুষের গ্রহণযোগ্য বিশুদ্ধ বাতাসে দূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। বাতাস দূষিত হলে মানুষ সরাসরি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া ওজোন স্তরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এই সময়ের ব্যবধানে। সুপেয় পানির জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে এমন আশঙ্কা গত কয়েক দশক ধরেই করা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ সুপেয় পানি পাবে না। এই খাবার পানির সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বছরগুলোতে। এখনই প্রায় ২.৭ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। যা প্রায় পুরো পৃথিবীবাসীর ৪০ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ প্রতিনিয়ত পানির সংকটে ভুগছে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন মানুষ খাবার পানি পাবে না। শুধু তাই নয়। মারাত্মক সংকট তৈরি হবে ফসলি জমিতে সেচের ক্ষেত্রেও। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অবস্থা বর্তমানে বিবেচনার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। ফসল উৎপাদনে পৃথিবী প্রতি এক যুগে প্রায় দুই শতাংশ ক্ষমতা হারায়। ২০৫০ সালে মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগতে শুরু করবে। একই সঙ্গে হারিয়ে যাবে মাছ। সমুদ্র ও নদী থেকে বর্তমান সময়ে পরিচিত মাছ আর থাকবে না। মানুষ যত প্রযুক্তির দিকে নির্ভরশীল হচ্ছে তত তার নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত হয়ে উঠছে। ২০৫০ সালে সাইবার আক্রমণ আরও শক্তিশালী ও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। ভৌগলিক অবস্থান পরিবর্তন হবে সারা পৃথিবীময়। সেই কারণে কবিতার বিষয়বস্তু, উপন্যাস ও ছোট গল্প বা গল্পের ধরণ বদলে যাবে। নাটকের দৃশ্যপট হবে পরিবেশ আশ্রিত। পুরো সাহিত্য ক্ষেত্রে আঙ্গিকগত ও বিষয়গত পরিবর্তন সূচিত হবে।

২০৫০-২০৬০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ৯ বিলিয়ন অতিক্রম করতে পারে। মহাসাগর একটি জলীয় সংকটে পতিত হবে এবং সম্পদের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। ভারতের ঔপন্যাসিক অমিতাভ ঘোষের মতে- পৃথিবীর এত বড় বিষয় জলবায়ু নিয়ে অধিক হারে নভেল, সাহিত্য লেখা হচ্ছে না কেন ? কেন পৃথিবীর মানুষ আরো বেশি বেশি জলবায়ু নিয়ে রিপোর্ট পড়ছে না ? কেন এ নিয়ে আরো বেশি বেশি হৈচৈ হচ্ছে না? জলবায়ু নিয়েই সারা বিশ্ব ভবিষ্যতে চরম সংকটের দুয়ারে পৌঁছে যেতে পারে। আজকের বিজ্ঞান এটুকুই আগাম সূত্র দিচ্ছে। বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে আখ্যা দিয়েছে। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিং যদি কাল সমুদ্র জলরাশিকে সমুদ্র সীমার ওপরে তুলে দেয়; তবে মানুষ, জীবজন্তু আর গাছপালা তাদের ঠিকানা খুঁজতে ন্যূনতম মাটি খুঁজে না-ও পেতে পারে। আজ যে শিশু কিংবা তরুণরা আনন্দে খালি জায়গাটুকুতে বনভোজন করে বেড়াচ্ছে, তাদের জীবদ্দশাতেই সি-লেভেল বা সমুদ্র স্তর অতিক্রান্ত পানির গহ্বরে পড়ে যেতে পারে সেই শুকনো জায়গাটুকু। সমুদ্র গহ্বরে লুকিয়ে যেতে পারে আজকের অধিকাংশ জনপদ। মানুষ ১৫০-২০০ বছর বাঁচছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা বেড়ে ১৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে (পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা ৭.৩ বিলিয়ন, ২০৫০ সালে জনসংখ্যা বেড়ে হবে ৯.৭ বিলিয়ন আর ২১০০ সালে হবে ১১.২ বিলিয়ন), এ রকম এক পৃথিবী ১৫০ বছর পরে সামান্য আর্থসামাজিক ভারসাম্যহীনতাতেই কিন্তু ভীষণ রকম ডিস্টোপিয়ান হয়ে উঠতে পারে। দেখা দিতে পারে আরও বেশি অসাম্য; সেখান থেকে হতাশা ও নৈরাজ্য। সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে।

উন্নত দেশগুলোর ত্রুুহীন মানবজিনোমের অধিকারী বড়লোকেরা হয়তো আগামী ১০০ বছর পর স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবেন না। এরা বিপুল সম্পদ নিয়ে প্রথমে পৃথিবীর আন্তর্জাতিক পানিসীমানায় নিজস্ব কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে বড়লোকপাড়া স্থাপন করতে পারে। কৃত্রিম দ্বীপ কেন ? কারণ মোনাকো বা সুইজারল্যান্ড বা পশ্চিম পাম বীচ যতই বিত্তবান এলাকা হোক না কেন; উত্তর আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্য বা লাতিন আমেরিকা থেকে বেশি দূরে নয়। এমনকি উত্তর আমেরিকায় সাদা মানুষ তখন ভীষণ সংখ্যালঘু এক জাতি। বেআইনি আর অসম্পূর্ণ সাধারণ মানুষে সয়লাব হয়ে যাবে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ অংশে। আর তাই আটলান্টিক বা প্যাসিফিকে সাগরের মাঝামাঝিতে পানির ওপরে ও নীচে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে কিছু নতুন অতি সমৃদ্ধশালী সুপার রীচ বা সার্বভৌম সুপার রাষ্ট্র। এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মহাবিত্তবান প্রায়-অমর মানুষেরাই পরবর্তী সময়ে প্রথম সুযোগে চাঁদে। দ্বিতীয় সুযোগে মঙ্গল গ্রহে বা অন্য গ্রহগুলোতে বসতি স্থাপন করবে। আর জলবায়ুর দিক থেকে বিধ্বস্ত, প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে নিঃস্ব এই পৃথিবীতে পড়ে থাকবে দরিদ্র দেশগুলোর জেনেটিকভাবে ‘অপরিশোধিত মানুষেরা। আগামী দেড়শ বছরে ভিন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্বের সাথে মানুষের দেখা না হবার সম্ভাবনা বেশি। জিন সম্পাদনা করতে পারছে মানুষ। মুক্তি মিলতে পারে কঠিন সব রোগ থেকে প্রশ্ন হচ্ছে দেড়শ বছর পরে পৃথিবী আদৌ টিকবে কি-না ? পরিবেশ বিপর্যয়ের যে বার্তা দেয়া হচ্ছে, তাতে শঙ্কা থেকেই যায়। তবে দেড়শ বছরের মধ্যে পৃথিবীর স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠ বৈশ্বিক উষ্ণতায় আগামী দেড়শ বছরে অন্তত ১ ফুট বাড়বে এবং পৃথিবীর অনেক দেশই বেড়ে যাওয়া সমুদ্রের পানিতে ডুবে মরবে। এমনকি নিউক্লিয়ার যুদ্ধের শেষ হয়ে যেতে পারে আমাদের এই পৃথিবীতে। কাজেই বিজ্ঞানের ঝড়ের বেগে বিরামহীন অগ্রগতির কারণে গত ১৫০ বছরে পৃথিবী যেখানে এসে পৌঁছেছে, তাকে পেছনের আয়নার দ্রুত অপস্রিয়মাণ প্রতিচ্ছবি দেখলে দেখা যাবে আমাদের প্রিয় এই সুন্দর বসবাসের সৌকর্যের বিশ্ব আগামী ১৫০ বছরে কাথায় যাবে, সেটা বলতে পারাটা অনেকটাই অসম্ভব। ২০৩৬-২০৪৫ সাল নাগাদ মানুষ অমরত্ব পাবার বিষয় জয় করতে পারে। এখন আমাদের জন্য একটি স্বপ্ন হতে পারে কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ধন্যবাদ যে আমরা অমরত্বের উত্তর খোঁজার খুব কাছাকাছি এসেছি। ব্রিটিশ জেরোন্টোলজিস্টরা পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০৩৬ সালের মধ্যে এটি হবার ৫০% সুযোগ রয়েছে। ভূ-ত্বকের যেকোনোর ধরনের পরিবর্তনে পৃথিবী ব্যপী বিশাল পরিবর্তন অতীতে দেখা গেছে। কত সমৃদ্ধ নগরীও ধ্বংস হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় বলে যে কোনো পরিবর্তনে আবারো ব্যাপক পরিবর্তন হবে। সেই সাথে সাহিত্যেও যুক্ত হবে কত হারিয়ে যাওয়া নগরীর ইতিহাস, সেই হাজার হাজার ডাটা সম্বলিত বই, হারিয়ে যাবে মূল্যবান পুস্তকাদি আরো কত কিছু। বিনিময়ে নতুন করে লেখা হবে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাস কাহিনি। সে সব সাহিত্যে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত হবে অগ্রসরমান বিজ্ঞানের তথ্য। তবুও ধারণা নির্ভর করে মানুষ এগোতে থাকে সব সময়। কেননা মানুষের স্বপ্নই মানুষকে নিয়ে যায় আগামীর দিকে। সেই ধারণ প্রসূত বলাই যায় আমাদের বাংলা সাহিত্য ব্যাপক পরিবর্তন নিয়েই সে সময়ের পৃথিবীর মানুষের কাছে উপস্থিত হবে নি:সন্দেহে।

পাঠ সূত্র:
১। টেক ইনসাইডার
২। দৈনিক পত্রিকা
৩। নেট ভিত্তিক পত্রিকা

সংক্ষিপ্ত পরিচিত :
নব্বই দশকের কবি, প্রাবন্ধিক । মহাসচিব- অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন। বিভাগীয় সম্পাদক: অনুপ্রাস সাহিত্য পাতা -দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক কালধারা। বিশেষ প্রতিনিধি: শিরদাঁড়া। বাংলাদেশ প্রতিনিধি: মননস্রোত (ত্রিপুরা, ভারত)। সভাপতি- বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কবিতা পরিষদ। সদস্য, হাসুমনির পাঠশালা। সাবেক সভাপতি, বদরুন্নেসা কলেজ ও সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগ। পড়াশুনা- এম.এ। জন্ম -২১ আগস্ট, ১৯৭৩, জেলা- লক্ষ্মীপুর, বাংলাদেশ।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- ১৩টি, গবেষণা প্রবন্ধ-২টি (বিজ্ঞান কবিতার ভাবনা ও কাব্য কথায় ইলিশ), সম্পাদনা কাব্যগ্রন্থ-১টি, সহযোগী সম্পাদনা (বিষয়ভিত্তিক)- ১১টি।জাগ্রত ছোট কাগজের সম্পাদক। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- সাত মার্চ শব্দের ডিনামাইট (বঙ্গবন্ধু সিরিজ), বিজ্ঞান কবিতা, প্রেমের বিজ্ঞান কবিতা, স্বাধীনতা মঙ্গলে, বিজ্ঞান সনেট। বর্তমান সময়ে তিনি বিজ্ঞান সমন্বয়ে কবিতাকে নতুনত্ব দিয়েছেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয় নব্বই দশকে। লেখালেখির জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন-এর মহান বিজয় দিবস-২০১১ সম্মাননা ও সাপ্তাহিক শারদীয়া কাব্যলোক বিশেষ সম্মাননা-২০১৩ পেয়েছেন। ঠিকানা: ঢাকা-১২০৫, বাংলাদেশ।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com