সারাদেশ 

কারখানার তরল বর্জ্যের দূষণ থেকে নিষ্কৃতি চায় এলাকাবাসী

কারখানার তরল বর্জ্যের দূষণ থেকে নিষ্কৃতি চায় এলাকাবাসী

নিউজ ডেস্ক:

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ করে সাভার পৌর এলাকার পোড়াবাড়ী মহল্লার জেলে পরিবারের সদস্য দুর্গা রানী বলেন, ‘বংশী-ধলেশ্বরী নদীতে মাছ ধরে আমাদের জীবন চলত। এখন নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। মাছ তেমন আর পাওয়া যায় না। দুই-চারটা পাওয়া গেলেও তাতে ঘা থাকে। নদীর পানিতে নামলে শরীর চুলকায়। মাছ বিক্রি করে ওষুধের পয়সাও জোটে না। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা বদলাচ্ছে।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাভারের খাল-বিল, জলাশয় রক্ষাসহ আমিনবাজারে ওয়েস্ট ডাম্পিং সাইট কর্তৃক সৃষ্ট সমস্যা ও দূষণ রোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাভারের আনন্দপুরে ভার্ক মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর র্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), নিজেরা করি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) যৌথ সহযোগিতায় এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পাথালিয়া ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের নাসীর উদ্দিন পিন্টু বলেন, তাঁদের বাড়ির পাশে অনেক জমি ছিল। ৫০০ মণ ধান পেতেন। বাড়ির পাশের জমি-জঙ্গল-খাল দখল ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় একটি কারখানা থেকে তরল বর্জ্য তাঁদের জমিতে গিয়ে পড়ছে। তাই আগের মতো এখন আর জমিতে ধান ফলে না। এখন তাঁদের চাল কিনে খেতে হয়। ওই কারখানায় অভিযোগ জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

সাধাপুর এলাকার বশির উল্লাহ বলেন, বিলবাঘিল বিলে একসময় প্রচুর মাছ ছিল। বিলের পাশে ধান চাষ হতো। সাভারের নাজিরশাইল এক নামে পরিচিত ছিল। এখন পানি দূষিত হওয়ায় এবং দখলের কারণে বিলবাঘিলের অস্তিত্ব নেই। নালা দিয়ে পানি যায়। ওই পানি ব্যবহার করলে ধানগাছ বাড়লেও ধান চিটা হয়ে যায়।

বনগাঁও ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর এনায়েতউল্লাহ বলেন, ‘স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। যখন বাতাশ শুরু হয় তখন আমিনবাজার ডাম্পিং স্টেশন থেকে নির্গত দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।’

স্থানীয় নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, আমিনবাজারে ওয়েস্ট ডাম্পিং স্টেশন করা হয়েছে, চামড়া শিল্পনগরী সাভারে করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবসম্মতভাবে করা হয়নি। এলাকার দখল-দূষণ রোধে প্রশাসনকে তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সাভারে ৫০টি কারখানা সরাসরি পরিবেশ দূষণের সঙ্গে জড়িত। সাভারে কর্ণপাড়া খাল, ধলাই বিল, পাকুরিয়া বিল, তাতি বিল, শুকনা বিল, রইপতা বিল, নওয়াদ্দা বিল, পোড়াবাড়ী খাল, বিলবাঘিল খাল, কুলুবাড়ির খাল, ঘুঘুদিয়া খাল, কাতলাহরের খাল, তেঁতুলঝোড়া খাল, জগিজঞ্জাল খালসহ অন্য সব খাল-বিল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমিনবাজার ওয়েস্ট ডাম্পিং সাইটের ফলে সৃষ্ট দূষণ জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা এবং দূষণ সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করতে সরকার, শিল্পকারখানার মালিক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং পরিবেশবাদীদের সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে এলাকার সুধীসমাজের লোকজন এই আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com