সারাদেশ 

অগ্নিঝরা ১৪ই মার্চ: ইতিহাসের এই দিনে

অগ্নিঝরা ১৪ই মার্চ: ইতিহাসের এই দিনে

১৯৭১ সালের মার্চ মাসের যত দিন যেতে থাকে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নে ততই বাস্তবে রূপ নিতে থাকে। চলমান অসহযোগ আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সমগ্র পূর্ব বাংলা বঙ্গবন্ধুর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। স্বাধীনতার আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রতিদিনই প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিতে থাকেন সমগ্র বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব বাংলার সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই দিনে ৩৫টি নির্দেশনা প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু। শেখ মুজিবুর রহমানের এই নির্দেশনার পর পূর্ব পাকিস্তানের ওপর থেকে কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল ডাকেন। কিন্তু তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃ ও বহিঃবাণিজ্য অব্যাহত রাখা, কৃষি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সবধরণের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে, সড়ক ও নদীপথ, বন্দর, হাসপাতাল ও গণমাধ্যম এবং হাসপাতালসমূহ দেশব্যাপী হরতালের আওতামুক্ত রাখেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ কর্তব্য পালনের আহ্বান জানান।
তিনি শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রয়োজনে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ এবং ডাক বিভাগকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। দেশের জনগণকে যাতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেজন্য বঙ্গবন্ধু বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।
একাত্তরের এই দিনে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কার্যক্রম আরও জোরালো হতে থাকে। জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৪-দফা পূর্বশর্ত মেনে নেয়ার দাবিতে ’৭১ এর আজকের দিনে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবী সংগঠন এবং যুব মহিলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সভা-সমাবেশ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজ বাসভবনে ন্যাপ নেতা খান আবদুল ওয়ালী খানের সাথে আলোচনা বৈঠকে মিলিত হন। উক্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনাকালে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি দলের উপ-নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ.এইচ.এম কামরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত চিলেন। বৈঠক শেষে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধু বলেন, স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্যই আমাদের সংগ্রাম। যতদিন পর্যন্ত অধিকার আদায় হবেনা, ততদিন বাঙালির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদপত্র প্রেস কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সকালে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে একটি আবেদনপত্র দেয়া হয়। তাতে নেতারা যে কোন নির্দেশ পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অবিলম্বে একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুরোধ জানান

Related posts

Leave a Comment

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com